পাখিটিকে ক্রমাগত উড়তে দেখে কুমু আর লাটুর মনে আর কোনো সন্দেহ রইল না যে সে খুব দ্রুতই তার দলের কাছে পৌছে যাবে।
কুমু ও লাটু একটি আহত পাখিকে পরিচর্যা করে সুস্থ করে তুলেছিল। সুস্থ হওয়া মাত্রই পাখিটা উড়তে থাকা বুনোহাঁসের দলের কাছে ফিরে যাওয়ার জন্য উড়াল দেয়। উড়তে গিয়ে প্রথমে পাখিটি বুনোহাঁসের দল থেকে শক্তি ও সামর্থ্যে অনেকটা পিছিয়ে পড়ে। কুমু ও লাটুর মনে সন্দেহ জাগে পাখিটা হয়তো উড়ে গিয়ে বুনোহাঁসের দলে মিশতে পারবে না, দ্রুতই ক্লান্ত হয়ে নিচে নেমে পড়বে। কিন্তু পাখিটা ক্রমাগত উড়তে থাকায় তাদের মনের সেই সন্দেহ পুরোপুরি দূর হয়ে যায়।
Related Question
View Allহাঁসরা বিলের পানিতে গিয়ে নামল।
শ্রেয়সীর মাধ্যমে 'পাখি' গল্পের মূল চেতনা, পশু পাখির প্রতি অকৃত্রিম মমত্ববোধের দিকটি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
লীলা মজুমদার রচিত 'পাখি' গল্পে বর্ণিত কুমু ও লাটু একটি আহত পাখির জীবন রক্ষার জন্য তৎপর হয়ে ওঠে। পাখিটিকে তারা যথাসাধ্য সেবা-যত্ন করে। পাখিটির জন্য তারা একটি থাকার জায়গা তৈরি করে দেয়। তাদের সেবায় পাখিটি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে। প্রায় একমাস পর সুস্থ হয়ে পাখিটি আবার বুনোহাঁসের বহরে ফিরে যায়।
উদ্দীপকের শ্রেয়সী রাস্তার পাশে গর্তে আটকে থাকা একটি বিড়ালছানা খুঁজে পায়। সে ছানাটিকে উদ্ধার করে পরম মমতায় কোলে তুলে নেয়। সেবা-যত্নে বিড়ালটিকে সুস্থ করে তোলে। একইভাবে 'পাখি' গল্পের কুমু ও লাটু আহত পাখিটির প্রতি মমত্ববোধ প্রদর্শন করেছে। উদ্দীপকের শ্রেয়সীর কর্মকান্ডেও এ দিকটিই প্রতিফলিত হয়েছে।
সুজার মানসিকতা 'পাখি' গল্পের কুমু বা লাটুর মতো মানবিক হলে বিড়ালছানাটিকে শ্রেয়সীর হারাতে হতো না।
'পাখি' গল্পে গল্পকার কুমু ও লাটু চরিত্রের মধ্য দিয়ে পশু-পাখির প্রতি ভালোবাসার দিকটি ফুটিয়ে তুলেছেন। শিকারির বন্দুকের গুলিতে আহত বুনোহাঁসটির প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় তারা। তাদের উদ্যোগে পাখিটি বিপদ থেকে রক্ষা পায় এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে।
উদ্দীপকে বর্ণিত সুজার মাঝে 'পাখি' গল্পের কুমু ও লাটুর বিপরীতধর্মী মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। তার বোন শ্রেয়সী একটি আধমরা বিড়ালছানা উদ্ধার করে ঘরে নিয়ে আসে। শ্রেয়সী পরম মমতায় বিড়ালটির সেবা-যত্ন করে। কিন্তু সুজা বিড়ালটির প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব পোষণ করে। সুজা বিনা কারণে বিড়ালছানাটিকে নির্যাতন করে। এ কারণেই শ্রেয়সী বিড়ালছানাটি হারিয়ে ফেলে।
পশু-পাখির প্রতি মমতা প্রদর্শন একটি অন্যতম মানবিক গুণ। 'পাখি' গল্পের কুমু ও লাটু দুজনেই অসহায় বুনোহাঁসটির প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা প্রদর্শন করেছে। তাদের এই অকৃত্রিম মমত্ববোধ ও সমবেদনা গল্পটিকে দিয়েছে অনন্য মাত্রা। উদ্দীপকের সুজা শ্রেয়সীর পোষা বিড়ালটিকে গল্পের কুমুও লাটুর মতো মানবিক দৃষ্টিতে দেখলে বিড়ালটির এমন পরিণতি হতো না। এদিক বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথাযথ।
ললাটু লেবু গাছের ডালে পাখিটির জন্য বাসা বেঁধে দিয়েছিল।
আহত বুনোহাঁসটির প্রতি সমবেদনা অনুভব করায়, এবং তাকে সাহায্য করার বাসনা থেকেই কুমু প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছিল।
শিকারির গুলিতে আহত বুনোহাঁসটির করুণ দশা দেখে কুমুর প্রাণ কেঁদে ওঠে। পাখিটিকে সাহায্য করার জন্য সে আকুল হয়ে ওঠে। প্রাথমিকভাবে তার কষ্ট লাঘবের কোনো উপায় কুমু খুঁজে পায় না। তাই মনে মনে পাখিটিকে সমবেদনা জানায়। এ কারণেই সে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করে।
উদ্দীপকে 'পাখি' গল্পে বর্ণিত পশু-পাখির প্রতি মানুষের অকৃত্রিম মমত্ববোধের বিশেষ দিকটি ফুটে উঠেছে।
'পাখি' গল্পে কুমু ও লাটু চরিত্রের মাধ্যমে লেখক পশু-পাখির প্রতি মানুষের সহানুভূতিশীল আচরণ তুলে ধরেছেন। আহত অতিথি পাখির প্রাণ বাঁচাতে কুমু ও লাটু তৎপর হয়ে ওঠে। পাখিটির গুলিবিদ্ধ ডানার যথাসাধ্য সেবা করে তারা। পাখিটির জন্য লেবু গাছে বাসা বেঁধে দেয়। সবসময় খেয়াল রাখে যেন কেউ পাখিটির ক্ষতি করতে না পারে। তাদের সেবায় পাখিটি একসময় সুস্থ হয়ে ওঠে এবং তার বুনোহাঁসের দলে ফিরে যায়।
উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে একজন ব্যাংক কর্মকর্তা স্বেচ্ছাসেবকের কথা যিনি আহত প্রাণী উদ্ধার কার্যক্রমের প্রধান। শামীম বহু আহত কুকুর, বিড়ালকে উদ্ধার করেছেন, ড্রেনের ময়লা পানিতে পড়ে মরতে মরতে বেঁচে যাওয়া দুটি কুকুরছানা আশ্রয় পায় তার কাছে। একটি মারা গেলেও অন্যটি বেঁচে যায় তার সেবায়, উদ্ধার কার্যক্রমের স্বেচ্ছাসেবকদের নির্জ বাসাই এসব আহত প্রাণীর উত্তম আশ্রয় হয়ে ওঠে। 'পাখি' গল্পের পাখির প্রতি মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে উদ্দীপকে। স্বেচ্ছায় অসহায় প্রাণীদের রক্ষা করা, সেবা দেওয়া ও নিজ বাড়িতে আশ্রয় দেওয়া যেন অকৃত্রিম মমত্ববোধেরই প্রতিফলন। সুতরাং, উদ্দীপকে 'পাখি' গল্পে ফুটে ওঠা প্রাণীর প্রতি মানুষের অকৃত্রিম মমত্ববোধের দিকটিই লক্ষ করা যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

